ল্যাপটপ কেনার পূর্বশর্ত!

বাংলাদেশের বর্তমান কম্পিউটার বাজারের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি পণ্যের নাম হল ল্যাপটপ (Laptop)। সুবিধামত যেখানে ইচ্ছা ব্যবহার এর উৎকর্ষতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে নিঃসন্দেহে বহুগুণ। ভ্রমনের সঙ্গী হিসেবে, লোডশেডিং এর সময় ইত্যাদি নানা কারনে ল্যাপটপ আজ বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয়। এখন মূলত বিদ্যুৎ প্রকটের সমস্যায় অনেকে নিরবিচ্ছিন্ন কম্পিউটিং উপভোগ করার জন্য সামান্য বেশি দাম দিয়ে হলেও একটি Desktop এর চেয়ে Laptop কেনাটাকে-ই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

Different Laptop Brands

Different Laptop Brands

যাই হোক, মূল কথায় আসি, কাজের পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে ল্যাপটপ (Laptop) মূলত ২ প্রকার হয়ে থাকে।-

১) নেটবুক (Netbook) এবং

২) নোটবুক (Notebook)

যারা হালকা-পাতলা কাজ বা অনলাইনে কাজ করে থাকেন তারা সাধারনত নেটবুক ব্যবহার করে থাকেন। আবার, যারা একটু ভারী কাজ করেন- HD Graphics/ Video Editing অথবা High-End PC Gaming এর মত কাজে নোটবুক বেশ উপযোগী।

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু জরুরী বিষয়ঃ

আপনি যখন ল্যাপটপ কিনতে যাবেন, তখন কিছু জরুরী বিষয় আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে হবে যাতে কেনার পরে ঠকে গেছেন- এমনটা মনে না হয়। তাই না!! :p

  • সাধারন কাজে- মুভি দেখা, গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা সহ ছোটখাটো কাজের জন্য কম বাজেটের ল্যাপটপ কেনাই যথেষ্ট। তবে মুভি দেখা যদি আপনার নেশা হয় (আমার মত) তবে একটু বড় স্ক্রিন (১৫”/ ১৬”/ ১৭”) দেখে ল্যাপটপ কিনে ফেলুন। বড় স্ক্রিন ছাড়া মুভি দেখে শান্তি নাই।
  • ল্যাপটপ নিয়ে যদি আপনাকে বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে কাজ করতে হয়, তবে বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ সম্পন্ন ল্যাপটপ কেনাই ভালো। কিন্তু, আরেকটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন, আপনার পছন্দের ল্যাপটপটির স্ক্রিন যত বড় হবে, ব্যাটারি চার্জ তত কম থাকবে, আবার স্ক্রিন ছোট হলে ব্যাটারি চার্জ বেশিক্ষণ ধরে থাকবে। সাধারনত সব ল্যাপটপের ব্যাটারি লিথিয়াম (Li-on) আয়নের হয়ে থাকে এবং যত বেশি সেল (৪টা-১২টা) থাকবে ব্যাটারিতে, ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ততটাই বেশি হবে। বর্তমান ল্যাপটপগুলির ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ৩-৮ ঘণ্টা হয়ে থাকে। কেনার সময় বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন আপনার পছন্দের ল্যাপটপটির ব্যাটারি কতক্ষন ব্যাকআপ দেয়। সাধারনত,৬ সেল = ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা, ৯ সেল = ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, ১২ সেল = ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা  ব্যাকআপ দেয়।
HP Laptop

HP Laptop

  •  গেম খেলা, ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক্সের কাজের জন্য উচ্চ গতি সম্পন্ন একটু হাই-কনফিগারেশনের ল্যাপটপ কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমেই, প্রসেসরের ক্লক স্পিডের (clock-speed) দিকে লক্ষ রাখবেন, যত বেশি ক্লক স্পীড ( 3.0 GHz বা এর উপরে) হবে, তত ভালো পারফরমেন্স পাবেন। এখন তো Core-i-series বাজারে চলছেই। প্রসেসরের মধ্যে Core-2-Duo ( greater than equal 3.0 GHz) কিন্তু খুব ভালো মানের প্রসেসর। আপনার বাজেটের মধ্যে যেটা কুলায় সেটাই নিয়ে নিন, কিন্তু ক্লক স্পিডটা যেন বেশি থাকে। পাশাপাশি, কেনার সময় ল্যাপটপটির হার্ডডিস্ক, র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ড চেক করে নিন। কমপক্ষে 4GB DDR3 র‍্যাম নেবার চেষ্টা করবেন। হার্ডডিস্ক নিবেন আপনার জায়গার প্রয়োজন বুঝে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে, ল্যাপটপটিতে যে Graphics Memory থাকবে সেটা Shared Memory না কি Dedicated Memory- সেই দিকে লক্ষ রাখবেন। Shared Memory র‍্যাম এর কিছু অংশ নিয়ে তা গ্রাফিক্স মেমোরি হিসেবে কাজ চালাবে। কিন্তু, Dedicated Memory র‍্যাম থেকে কোন অংশই শেয়ার করবে না।

Processor: Core-i-5

Core-2-Duo

  • ল্যাপটপের প্রধান সুবিধা হচ্ছে এটি সহজেই বহনযোগ্য (portable)। তাই, যে মডেলের ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন, সেটার ওজন কেমন তা নিজ দায়িত্তে জেনে নিন। ছোট স্ক্রিনের ল্যাপটপগুলোর ওজন বড় স্ক্রিনগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে, যা বহন করা সুবিধাজনক। বাইরের কাজে বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে কম ওজনের ল্যাপটপ কেনাই ভালো।
  • ল্যাপটপ কেনার সময় দেখে নিন, যে ব্রান্ডের পণ্যটি কিনছেন সেটার Warranty কত মাসের/ বছরের। এছাড়া USB port কতগুলো রয়েছে। এখনকার গুলোয় মূলত USB 3.0 port চলে এসেছে। অনেক গুলোতে USB port এর দুটো (USB-2.0 এবং USB-3.0) ভার্সন-ই থাকে।
  • আপনি যদি একটু সৌখিন/ স্টাইলিশ পারসোনালিটির মানুষ হন, তবে ডিজাইনের দিকে আলাদা করে নজর দিতে পারেন। অনেকে তাদের পারসোনালিটি বা স্ট্যাটাস এর সঙ্গে মিল রেখেই ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে আমি এগিয়ে রাখবো Apple MacBook Air (13 inch), Dell Inspiration 14z বা Origin EON17-S এর মত প্রোডাক্টগুলোকে। অবশ্য সেজন্য আপনাকে দামটাও একটু বেশি গুনতে হবে। তবে এটা ঠিক, বেশি দাম দিয়ে হলেও যদি একবার ভালো Brand কিনতে পারেন, তাহলে বার বার আর পিছন ফিরে তাকানো লাগবে না।

Apple Laptop

  • কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড, চার্জার, ব্যাগ (যদি ফ্রী দেয়) ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র যা আপনার ল্যাপটপের সঙ্গেই পাচ্ছেন, সব বুঝে নিন। সব সময় আমদানিকারক, অনুমোদিত ডিলার, বিশ্বস্ত মাধ্যম বা ব্যাক্তির কাছ থেকে ল্যাপটপ কিনুন।
  • অবশ্যই সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
  • আশেপাশের অভিজ্ঞ বন্ধু/কলিগদের সাথে আলোচনা করে নিতে পারেন।
  • কেনার আগে অবশ্যই ২-১ দিন কম্পিউটার মার্কেট ঘুরে দাম এবং জিনিসটি যাচাই করুন।

আজ এ পর্যন্ত। আগ্রহ নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

– (আল-রাশেদ/iRashed48)

Advertisements
Posted in কম্পিউটার এবং টেকনোলজি | Tagged , , , , , , , | মন্তব্য দিন